ঢাকা শহরের অজানা এবং বিস্ময়কর কিছু তথ্য

ঢাকা শহরের অজানা এবং বিস্ময়কর কিছু তথ্য

 কেউ বলেন আজব শহর, কেউ জাদুর শহর। রাজধানী শহর ঢাকা আসলেই বৈচিত্র্যময় শহর।

  • বাংলাদেশের সংবিধানের ৫ এর (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের রাজধানী এবং ঢাকা বিভাগের প্রধান শহর হল ঢাকা। ঢাকা  একটি মেগাসিটি এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান শহরও বটে। 
  • বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এই শহর বাংলাদেশের বৃহত্তম শহর । বুড়িগঙ্গা সম্মুখীন নদীপ্রবাহ কারণে ঢাকা শহর  প্রাচ্যের ভেনিস নামেও পরিচিত।। বুড়িগঙ্গা নদীটি ঢাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এ নদীই ঢাকাকে বাংলাদেশের অন্যান্য প্রান্তের সাথে যুক্ত করে। তবে পরিবেশ বিভাগের মতে প্রতিদিন এ নদীতেই ২২ হাজার কিউবিক লিটার বিষাক্ত পানি ফেলা হয়।
  • ২০২০ সাল অনুযায়ী ঢাকার মহানগর এলাকার জনসংখ্যা প্রায়  ২ কোটি ১০ লক্ষ। এটি বিশ্বের নবম বৃহত্তম এবং সর্বাপেক্ষা ঘন জনবহুল শহরগুলির অন্যতম।
  • ঢাকা ’রিকশা রাজধানী ’ নামেও পরিচিত কারণ এই শহরের রাস্তায় প্রায় ১২ লক্ষ রিকশা চলাচল করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরের ৬০ শতাংশ বাসিন্দা তাদের প্রয়োজনে রিকশায় চড়ে
  • ঢাকা শহরকে ট্রাফিক জ্যামের হিসেবে পৃথিবীর সবচেয়ে বাজে শহর ধরা হয়। বিশ্বব্যাংক একটি গবেষণা বলা হয়, যানজটের কারণে রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে বছরে যে আর্থিক ক্ষতি হয়, অঙ্কের হিসাবে তা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এই শহরে এখন ঘণ্টায় গড়ে প্রায় সাত কিলোমিটার গতিতে চলছে যানবাহন যেখানে মানুষের হাঁটার গড় গতি ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটার বলে মনে করা হয়। যানবাহনের পরিমাণ যদি একই হারে বাড়তে থাকে এবং তা নিরসনের কোনো উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে ২০২৫ সালে এই শহরে যানবাহনের গতি হবে ঘণ্টায় চার কিলোমিটার, যা মানুষের হাঁটার গতির চেয়ে কম।
  • পৃথিবীর সব শহরেই দূরত্বের একক ‘মিটার’ হলেও ঢাকা শহরে দূরত্বের একক ‘সময়’। কেউ যদি বলে, ‘ভাই, মিরপুর থেকে সদরঘাট কত দূর?’ উত্তর আসে, ‘এই তো, জ্যাম না থাকলে ঘণ্টাখানেক আর মোটামুটি জ্যাম থাকলে তিন ঘণ্টা।’
  • এ শহরের বিশেষ অংশই ‘চা আসক্ত’। শহরের অধিকাংশ মানুষই চা পান করে। বলতে গেলে রাস্তার মোড়ে মাড়েই রয়েছে চায়ের দোকান। মিষ্টি, দুধে ভরা গরম চা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পান করার মজাই আলাদা। পরিসংখ্যান বলছে, একজন রিকশাচালক নাকি প্রতিদিন গড়ে ২০ কাপ পর্যন্ত চা পান করেন।
  • এ শহরেই ‘যমুনা ফিউচার পার্ক’ নামক শপিং মল অবস্থিত যা বিশ্বের দ্বাদশ এবং এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শপিং মল।
  • রাজধানী ঢাকাকে মসজিদের শহর বলা হয়। ঢাকার ছোট অলি-গলি থেকে শুরু করে বড় রাস্তার পাশেও মসজিদ পাওয়া যায়।  তবে ঢাকায় মসজিদের সংখ্যা কত তা হয়তো আমরা অনেকেই জানি না। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ২০০৮ সালের এক জরিপ থেকে জানা যায়, ঢাকা শহরে ৫ হাজার ৭৭৬টি মসজিদ রয়েছে।  ১৪৫৬-৫৭ সালে নির্মিত নারিন্দার বিনত বিবির মসজিদই সম্ভবত ঢাকার প্রথম মসজিদ। কালের বিবর্তনে মসজিদটি তার সৌন্দর্য হারালেও ঢাকার প্রথম মসজিদ হিসেবে এর ঐতিহ্য মোটেও কমেনি। এখনও দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন মসজিদটি একনজর দেখতে।
  • ঐতিহ্যের নগরী ঢাকার বয়স বাড়ার সাথে সাথে সমৃদ্ধ হয়েছে এখানকার খাবারের ইতিহাস। বিভিন্ন সময়ে দ্রাবিড়, তুর্কি, পারসীয়, আফগান, পর্তুগিজ এবং ইংরেজ জাতি আগমণের মাধ্যমে এই উপমহাদেশের খাবারের সাথে যুক্ত হয়েছে সেই সব দেশের রান্নার বিভিন্ন অনুষঙ্গ, বৈচিত্রতা, স্বাদ এবং বাহারি পদ। ঢাকা শহরও সেই ধারাবাহিকতা থেকে বাদ যায়নি। ধীরে ধীরে পােলাও, বিরিয়ানি, কালিয়া, শিক কাবাবের হাত ধরে ঢাকায় প্রসার ঘটে চটপটি, ফুচকা, দইবড়া, পেশােয়ারি খাবাবের। 
  • বর্তমান সময়েও ঢাকাবাসীর খাবার গ্রহণের রুচি ও স্বাদের বৈচিত্রময় পরিবর্তনের যাত্রা চালু আছে। এখন পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত ঢাকাবাসীর খাবারের প্লেটে স্থান দখল করেছে পিৎজা, বার্গার, হটডগ, ফ্রাইড চিকেন এবং দোসার মত বিদেশি খাবার। তবুও পুরান ঢাকার বিরিয়ানি, কাবাব, বাকরখানি এবং মােঘলাই খাবারের খ্যাতি সর্বজন সমাদৃত। 

অসংখ্য ঘটন-অঘটন, ইতিহাস এবং ভাল মন্দ মিলিয়ে হলেও ঢাকা আমাদের কাছে প্রিয় শহর। এ যাদুর শহরকে সবাই ভালবাসি, এ প্রাণের শহরকে আমরা সবাই ভালবাসি।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ