পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত দেশ ও শক্তিশালী পাসপোর্ট

পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত দেশ ও শক্তিশালী পাসপোর্ট

টেকনোলজির দিক থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী এমন একটি ছোটদেশ  যাকে আমেরিকা রাশিয়া সহ বিভিন্ন উন্নত দেশও মোকাবেলা করতে পারে না। পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে বাচ্চাদেরকে 10 বছর পর্যন্ত  কোন স্কুলে যেতে হয় না এমনকি পড়ালেখাও করতে হয়না। এখানকার বুলেট ট্রেন হাওয়ার চেয়েও দ্রুত গতিতে চলে। এই দেশের জাতীয় সংগীত পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট জাতীয় সংগীত। লেখাপড়ার দিক থেকে এই দেশ সবচেয়ে উন্নত। এই দেশের পাসপোর্ট পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট হিসেবে ধরা হয় আর এই কারণে আপনি এই দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিনা ভিসায় 191 তা দেশে ঘোরাফেরা করতে পারবেন।এটি এমন একটি দেশ যার উপর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বোমা আঘাত হানার পরও নিজেদেরকে এত সমৃদ্ধশালি করেছে। এত কিছুর পরও এই দেশের পরম্পরা এবং সভ্যতার তাদের দেশের সবচেয়ে বড় পরিচয়। জি হ্যাঁ আমি এতক্ষণ বলছি বাংলাদেশের একটি অন্যতম বন্ধুদেশ  জাপানের কথা। 

এটি পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র। প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বে 6872 টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই দেশ যার মোট আয়তন 3 লাখ 77 হাজার 972 বর্গ কিলোমিটার। প্রায় 70 ভাগ পাহাড় এবং পর্বত  দিয়ে ঘেরা এই দেশে দু'শোর বেশি জ্বালামুখী রয়েছে। 

1945 সালে জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে পারমাণবিক বিস্ফোরণের পরেই দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষ হয় এবং 1947 সালের জাপান স্বাধীন একনায়কতন্ত্র দেশ গঠন করে। জাপানি ভাষায় জাপান শব্দের অর্থ নিপ্পন যার অর্থ হলো উদীয়মান সূর্যের ভূমি অর্থাৎ জাপান হল সেই দেশ যে দেশের মানুষ পৃথিবীর ভোরের আলো প্রথম দেখে থাকে। এই দেশে শিশুরা স্কুলে লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত পনের মিনিট স্কুল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে থাকে এবং এর সঙ্গে তাদের শিক্ষকরাও যোগদান করে। তাছাড়া  শিশুদেরকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো রকম পরীক্ষা দিতে হয় না। এই দেশের মোট প্রকাশিত বইয়ের 20 শতাংশই হল কমিক্স বই। জাপানে কোন শিক্ষাবোর্ড নেই। জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শুধুমাত্র তাদের একটি পরীক্ষা দিতে হয় এবং তিন দিনব্যাপী এই পরীক্ষা চলে ।  জাপানে প্রতিবছর ছোট-বড়  প্রায় 15000 ভূমিকম্প হয়। তাই এদেশের সব বাড়ি ভূমিকম্প সহনশীল ভাবে তৈরি করা হয়।  এই দেশের ভূগর্ভে কোনরকম প্রাকৃতিক বা খনিজ  সম্পদ নেই তারপরও তারা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশ। এখানকার মানুষ অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং প্রচুর পরিমান কাজ করে থাকেন। এরা এতই কাজপাগল যে, অফিস আওয়ারে পরও ঘন্টার পর ঘন্টা অফিসে বসে থাকে। আর জাপান একমাত্র দেশ যেখানে অফিসের মধ্যে  কাজের ফাঁকে স্ট্রেস রেলিফ করার জন্য  মানুষ ঘুমাতে পারেন। কিন্তু এরা এতই ওয়ার্কহলি যে এমনটা কেউই করতে চায়না। শুনতে অবাক লাগলেও, অত্যাধিক কাজের চাপের ফলে এ দেশে প্রতিবছর প্রায় 10 হাজার মানুষ মারা যায়। এরপরও গড় আয়ু দিক থেকে জাপানের অবস্থান তৃতীয়। এই দেশের মানুষের গড় আয়ু প্রায় 83 বছর। জাপানিরা প্রায় সব ময়লাই  রিসাইকেল করে ফেলে। এদের রাস্তাঘাট এতই পরিষ্কার যে ধূমপায়ীরাও সঙ্গে করে এস্ট্রে নিয়ে ঘুরে, কারণ এক ফোটা ময়লা পড়লেও তাদেরকে ফাইন দিতে হয়। তাদের কাছে সময় মূল্য অনেক বেশি। এখানে ট্রেন আসতেও সর্বোচ্চ হলে 18 সেকেন্ড লেট হয়।  জাপানের সামাজিক বন্ধন খুবই দৃঢ়। যেকোনো সমস্যায় এরা সবাই একসাথে সমাধানের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। একবার একটি ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প ও সুনামিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল পুরো জাপান। আক্রান্ত জনগণের কাছে খাদ্য চিকিৎসা ও সেবা পৌঁছে দিতে হিমশিম খাচ্ছিল জাপান সরকার। এইসময় জাপানিদের সহযোগিতার জন্য মাঠে নেমে এসেছিল জাপানের  কুখ্যাত মাফিয়া ইয়াকুজা। তাদের সংঘবদ্ধতা এবং এক্সপার্টিজ পুলিশের থেকেও অনেক বেশি ছিল। তখন দুর্গম সব এলাকায় সরকারি সহযোগিতা পৌঁছানোর আগেই তাদের ত্রাণ পৌঁছে গিয়েছিল। এভাবেই যখন দুর্যোগ আসে তখন ভালো-খারাপের সীমানা মুছে দিয়ে সংঘবদ্ধভাবে সবাই একসাথে দুর্যোগ মোকাবেলা করে এবং একে অপরকে সাহায্য করে। 

তাই বড় বড় দুর্যোগ ও পারমাণবিক বোমার আঘাতের পরও জ্ঞানে অর্থনীতিতে প্রযুক্তিতে ও সাফল্যের শীর্ষে রয়েছে ছোট্ট এই দেশ জাপান। এ কারণে পৃথিবীবাসীর কাছে ভালোবাসা এবং বিস্ময়ের আরেক নাম।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ