১ লিটার রক্তের দাম ১১ লক্ষ টাকা | Most Expensive Blood

১ লিটার রক্তের দাম ১১ লক্ষ টাকা | Most Expensive Blood

আমরা অনেকেই স্বেচ্ছায় রক্তদান করে থাকি। কিন্তু একবার ভেবে দেখুনতো এক লিটার রক্তের দাম যদি ১১ লক্ষ টাকা হয় তাহলে কি আপনি স্বেচ্ছায় রক্তদান করবেন? হয়ত কিছু মানুষ এর পরও স্বেচ্ছায় রক্তদানের জন্য এগিয়ে আসবে। তবে যারা অন্যকিছু ভাবছেন তারা জেনে হয়ত দুঃখ পাবেন, আপনার আমার মত সাধারন মানুষের রক্তের মূল্য এত নয়।

আসুন আজ আমরা যেনে নেই কার এবং কিভাবে ১ লিটার রক্তের দাম ১১ লক্ষ টাকা হল।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে লিমিউলাস নামে এক প্রজাতির কাঁকড়ার প্রতিলিটার রক্তের দাম ১১ লাখ টাকারও বেশি।

অশ্বক্ষুরের ন্যায় দেখতে উপবৃত্তাকার এই প্রাণীকে কাঁকড়া বলা হলেও প্রজাতিগত দিক থেকে মাকড়সার সঙ্গে বেশি মিল রয়েছে এটির। আর এই কাঁকড়ার নীল রক্তই বহুমূল্য।  রক্তের অসাধারণ ক্ষমতার কারণে লিমিউলাস বা অশ্বক্ষুরাকৃতি কাঁকড়া যে কোনো ব্যাকটেরিয়া এবং বিষাক্ত পদার্থ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানে এদের গুরুত্ব অপরিসীম।

মানুষের রক্তে আয়রন বা লোহার উপস্থিতির কারনে রক্ত লাল দেখায়। আর ‘লিমিউলাস বা নাল কাঁকড়ার রক্তে  রয়েছে তামা। ফলে এদের রঙ নীল দেখায়। তবে নাল কাঁকড়ার নীল রক্ত নিয়ে বিজ্ঞানীদের তেমন আগ্রহ না থাকলেও  এদের রক্তে অ্যামিবোসাইট নামে একটি বিশেষ ধরনের রাসায়নিক পদার্থএর উপর বিজ্ঞানীদের অনেক আগ্রহ। অ্যামিবোসাইট মাত্র এক লাখ কোটি ভাগের একভাগ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিতে সংগে সংগে রক্ত জমাট করতে পারে। যেখানে স্তন্যপায়ী প্রাণির ক্ষেত্রে সময় লাগে ৪৮ ঘণ্টা।

এছাড়া এই  কাঁকড়ার রক্ত দিয়ে তৈরি করা হয় এক ধরনের প্রোটিন এজেন্ট । তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য প্রতিবছর আটলান্টিক মহাসাগর থেকে প্রায় পাঁচ লাখ নাল কাঁকড়া ধরা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ‘দ্য নেচার কনজারভেন্সির’ গবেষক ড. বারবারা ব্রামার বলেছেন, ‘এখন ৩০টির বেশি কোম্পানি ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে। এই কোম্পানিগুলোকে বহু ধরনের স্টেরাইলিটি টেস্ট চালাতে হয়। এজন্য লিমিউলাস কাঁকড়ার প্রয়োজন হয় ব্যাপক।



প্রতি বছর প্রায় ছয় লাখ কাঁকড়া যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্র উপকূল থেকে ধরা হয়। এর মধ্যে তাদের থেকে ৩০ শতাংশ রক্ত নেয়া হয়। এ নিয়ে সম্প্রতি বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ রক্ত নেয়ার ফলে ১০ থেকে ২০ শতাংশ কাঁকড়া মারা যায় বলে জানিয়েছেন কতিপয় প্রাণিবিজ্ঞানী। ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দ্য কনজার্ভেশন অব নেচার’ তাই (আই ইউ সি এন) এই কাঁকড়াকে ‘ভালনারেবল’ ঘোষণা করে মহাবিপন্ন প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

আগামী ৪০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে এই কাঁকড়ার সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যাবে জানিয়ে সতর্ক করেছে আই ইউ সি এন। এমন প্রেক্ষাপটে এই কাঁকড়াকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষায় বিজ্ঞানীরা একটি কৃত্রিম পদার্থ তৈরি করতে চেষ্টা করছেন। কারণ এই জীবনদায়ী লিমিউলাস কাঁকড়ার রক্তের সঙ্গে মানুষের জীবনও জড়িত।

এই প্রজাতির কাঁকড়াকে ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ নামেও অভিহিত করা হয়। কারণ ৪৪ কোটি ৫০ লাখ বছর আগেও পৃথিবীতে এদের অস্তিত্ব ছিল। অরথাত ডাইনোসরের চেয়েও প্রায় ২০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে আগমণ ঘটেছিল লিমিউলাসের।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ