কোন প্রাণী কিংবা জীবের যেমন নির্দিষ্ট জীবনকাল আছে ঠিক তেমনি আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীরও একটা নির্দিষ্ট LifeTime রয়েছে। শুধু এই পৃথিবী নয়; সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র থেকে শুরু করে এই মহাবিশ্বের সবকিছুর জীবনসীমা রয়েছে। কিন্তু বিশেষ কিছু কারনে এই নীল গ্রহের লাইফ আমাদের চিন্তাভাবনার চেয়েও অনেক দ্রুতগতিতে কমে যাচ্ছে এবং একটা সময় বুধ কিংবা মঙ্গল গ্রহের মতোই পাথুরে গ্রহতে পরিনত হবে আমাদের এই সুন্দর পৃথিবী ।
একটা নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে যে পৃথিবীর কেন্দ্রের গরম ম্যাগমা নিজের স্বাভাবিক গতির তুলনায় বেশি গতিতে ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে। যদি এ রকম চলতে থাকে, তাহলে বিজ্ঞানীদের ধারণা পৃথিবীর সমস্ত পদার্থ-গণিত ও জিওলজির থিউরি সবকিছুই পরিবর্তন হয়ে যাবে।
শূন্য ত্বরণের অভিজ্ঞতা নেয়া বিখ্যাত তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং তার পুরোটা কর্মজীবন বিজ্ঞান আর মহাবিশ্বের অলংকরণে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তিনি মনে করেন, আগামী ১০০০ বছরের মধ্যে যদি এ নশ্বর পৃথিবীর বিকল্প খুঁজে না পায় তাহলে মানব জাতির অস্তিত্ত্ব হয়ত আর থাকবে না।
বৈজ্ঞানিকরা গ্রহের কেন্দ্রের মধ্যে উপস্থিত থাকা খনিজের থার্মাল কন্ডাক্টিভিটি অর্থাৎ উষ্ণীয় চালকতা স্টাডি করে একটি রিপোর্ট তৈরি মাধ্যমে আমাদের জন্য খুব সুন্দর করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তুলে ধরেছেন। পৃথিবীর কেন্দ্রে থাকা গরম ম্যাগমা যত দ্রুত গতিতে এর তাপ ভূপৃষ্ঠে চলে আসবে, পৃথিবী অত বেশি করে কেন্দ্রের গরম হারিয়ে ফেলতে শুরু করবে।ভূগর্ভের গরম যদি চলে যেতে থাকে, তাহলে একটা সময় পৃথিবীর চুম্বকীয় ক্ষেত্র শক্তি শেষ হয়ে যাবে।
ডিটিএইচ এর প্রফেসর মুরাকামি জানিয়েছেন যে ব্রিজমেনাইট অর্থাৎ পৃথিবীর কেন্দ্রের উষ্ণতা আশার চেয়েও দেড় গুণ বেশি গতিতে ঠান্ডা হচ্ছে আর পৃথিবীর ইনার কোরে রেডিয়াস প্রতি বছর এক মিলিমিটার-এর মত বেড়ে যাচ্ছে । তারমানে প্রতি সেকেন্ডে ৮০০০ টন গলিত লোহা শক্ত হয়ে যাচ্ছে।। যদি এভাবেই পৃথিবী ঠান্ডা হতে শুরু করে তাহলে মঙ্গল গ্রহের মতো পাথুরে গ্রহ হয়ে যাবে এই পৃথিবী । যা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি পরিস্থিতি তৈরি হবে আর শুরু হবে যাবে এক বিশাল ধ্বংসলীলা।
ইন্দোনেশিয়া সহ বেশ কিছু এশিয়ায় দেশের উপর পৃথিবীর আকর্ষণ শক্তি শেষ হয়ে যাবে । জিপিএস সিস্টেম আর কাজ করবে না । পৃথিবীতে থাকা মানুষ এবং জীবজন্তু আকাশে উড়তে থাকবে. পৃথিবীর একদিকের সমুদ্র অন্যদিকে চলে যাবে। এশিয়া মহাদেশে বৃষ্টি পড়া বন্ধ হয়ে যাবে । সম্পূর্ণ পৃথিবীর চৌম্বকীয় শক্তি শেষ হবে এবং অভিকর্ষজ ক্ষমতা কমে যাবে। বায়ুমণ্ডল শেষ হয়ে যাবে এবং মানুষের মৃতদেহ অন্তরীক্ষে ভাসতে থাকবে।
এখন ভবিষ্যতে যাই হোক না কেন, একটাই আশার কথা যে আমরা কেন? আগামী কয়েকশো প্রজন্ম সেই ধ্বংসলীলা দেখে যেতে পারবে না কারন পৃথিবীর এই চুম্বকত্ব হারানোর ঘটনা ঘোটতে অনেকটা সময় লাগবে। কিন্তু দুঃখের কথা হল, সম্প্রতি বিবিসিতে প্রচারিত একটি তথ্যচিত্রে বলা হয়, যেভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে, তাতে আমাদের এই পৃথিবী আর বেশিদিন মানুষের বসবাসের উপযোগি থাকবে না। এই তথ্যচিত্রে আরও বলা হয়েছে, বায়ুমণ্ডলে ব্যাপক দূষণ, আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন, মহামারী, জনসংখ্যার ক্রমবৃদ্ধি সহ বিভিন্ন কারণ পৃথিবীকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাই মানুষসহ বিশ্বের প্রাণিজগতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে যত দ্রুত সম্ভব নতুন পৃথিবীর সন্ধান করতে হবে। এমনকি সৌরমণ্ডল থাকবে না বলেও দাবি করা হয়েছে বিবিসি এর এই রিপোর্টে।
তাই আমাদের পৃথিবীর আয়ু আরও কিছুদিন বাড়ানোর একমাত্র উপায় হল বেশি করে গাছ লাগানো আর যতটা সম্ভব পরিবেশ দূষণ কমান।
0 মন্তব্যসমূহ