এই সুন্দর পৃথিবীতে কে না চিরকাল বেঁচে থাকতে চায় ? কিন্তু এই পৃথিবীর প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। জন্ম নিলেই মৃত্যু অনিবার্য। আর এটাই বাস্তব সত্য। তারপরও কিছু প্রাণীর মৃত্যু নিয়ে বর্তমানে গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে যে , ঐ সকল প্রাণী অমরত্বের খুব কাছকাছি অবস্থান করছে। আপনার কাছে এটি অবিশ্বাস্য এবং অসম্ভব স্বপ্ন মনে হলেও এমন কিছু প্রাণী রয়েছে যারা অমর হবার ক্ষমতা রাখে। আসুন আজ আমরা জেনে নেই আমাদের এই পৃথিবীর এমন কিছু প্রাণীর কথা যারা অমর আর অমরত্বের খুব কাছকাছি রয়েছে।
ব্যাকওয়ার্ড-এজিং জেলিফিশ:
প্রাণীবিদদের কাছে টরিটপসিস ডরিনাই (Turritopsis doohmii) নামে পরিচিত এটি ক্ষুদ্রকায় একধরনের জেলিফিশ। বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের জন্য এই প্রজাতির জেলিফিশকে `অমর জেলিফিশ` নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আর আক্ষরিক অর্থেই এরা নিজেদের অমর করে রেখেছে কারন মৃত্যুর কোনওরকম আশঙ্কা দেখা দিলে এরা বার্ধক্যের উলটো পথ ধরে আগাতে থাকে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের কিছু গবেষকের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, যদি এই জেলিফিশের শরীরের কথাও সামান্য আঘাত লাগে কিংবা অসুস্থ হয় তখন এরা সঙ্গে সঙ্গে `পলিপ স্টেজ`-এ চলে যায় এবং চারপাশে মিউকাস মেমব্রেন তৈরির মাধ্যমে গুটি বেঁধে ফেলে আর এই অবস্থায় এরা তিন দিন পর্যন্ত থাকে। এ সময় এরা এদের শরীরের সব কোষকে নতুন কোষে রূপান্তর করে বয়স একদম কমিয়ে ফেলে। আর এভাবেই এরা বারবার নিজেকে রূপান্তরের মাধ্যমে নিজেদের সারাজীবন তরুন রাখে।
রিজেনারেটিং ফ্ল্যাটওয়ার্মস:
অনেকের কাছে এরা প্ল্যানারিয়ান ওয়ার্ম নামেও পরিচিত। নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা যায়, প্লানারিয়ান নামের ফ্ল্যাটওয়ার্ম পুনর্জন্ম ক্ষমতাসম্পন্ন। আর এদের মধ্যে এই পুনর্জন্মের অদ্ভূত ক্ষমতার কারনে আক্ষরিক ভাবেই এই কীটেরা অমর। একবার জন্ম নিলে এদের আর মৃত্যু হয় না। এই কীটের শরীরের কোনও অংশ কেটে দু-টুকরো হয়ে গেলেও ওই দুটো পৃথক টুকরো থেকে ২ টি আলাদা ফ্ল্যাটওয়ার্ম তৈরি হয়ে যায়। এ ভাবেই টুকরো টুকরো হয়ে এক থেকে অসংখ্য ফ্ল্যাটওয়ার্মের জন্ম হয় বলেই এদের নাম রিজেনারেটিং ফ্ল্যাটওয়ার্ম রাখা হয়েছে।
টার্ডিগ্রেড
এটি অতি ক্ষুদ্র এক প্রজাতির ভাইরাস। এক মিলিমিটারের মতো অতিক্ষুদ্র এই প্রাণীটির আরেক নাম ওয়াটার বেয়ার বা পানির ভালুক। এই জীব এতই ছোট যে একে শুধুমাত্র মাইক্রোস্কোপ দিয়েই দেখা সম্ভব। এটি একটি আট পা ওয়ালা প্রাণী যা পানিতে ভাসমান অবস্থায় থাকে। টারডিগ্রেড চরম প্রতিকুল পরিবেশে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারে। ৩০ বছর পর্যন্ত বিনা খাদ্য গ্রহণে বেঁচে থাকে এরা । এই ভাইরাস তেজস্ক্রিয়তা, অত্যন্ত ঠান্ডা কিংবা তিব্র গরম আর চরম পানিশূন্যতা থেকে শুরু করে মহাশূন্যেও টিকে থাকতে পারে। পৃথিবীতে যত রকম মহাজাগতিক দুর্যোগ ঘটতে পারে তার সবই মোকাবিলা করে টিকে থাকার ক্ষমতা রয়েছে এই টার্ডিগ্রেডের। এই খুদ্র প্রাণীটিকে সাধারণত পুকুরের শুকিয়ে যাওয়া উদ্ভিদের মধ্যে দেখা যায়।
এভার-গ্রোয়িং লবস্টারস:
লোহিত সাগরে বসবাসরত এই প্রাণীটি আদৌ জৈবিক ভাবে অমর কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মতভেদ রয়েছে। তবে, বিভিন্ন রকম পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, গলদা চিংড়ির বিশেষ এই প্রজাতি শুধুমাত্র অসুখের কারনে মৃত্যু হয়। রোগে ভুগে মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনও কারণে এদের মৃত্যু হয়েছে এমন কোন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। এদের শরীরে বার্ধক্য কখনো আসে না। যে কারণে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এরা প্রজনন করতে সক্ষম হয়ে থাকে। সম্প্রতি নিউফাউন্ডল্যান্ডে ১৪০ বছর বয়সী একটি লবস্টার পাওয়া গিয়েছে এবং তখনও এটি প্রজননে সক্ষম ছিল।
বিকিরণ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া
একজন সুস্থ মানুষের মোটামুটি ধরনের গামা রশ্মির বিকরণে মৃত্যু হয় কিন্তু এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের চেয়ে ১.৫ মিলিয়ন গুণ বেশি গামা বিকিরণ সহ্য করে বেঁচে থাকতে পারে। এই ধরনের ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ কখনো ধ্বংস করা যায় না, ফলে তা থেকে নতুন করে ওই ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়। আর এভাবেই এরা নিজেদেরকে অমর করে রাখে
স্টার্ডি টার্টলস
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শরীরে কোনো ধরনের রোগ ছাড়াই একটি কচ্ছপ শতাব্দীর পর শতাব্দীর বেঁচে থাকে। গবেষণায় দেখা যায়, কয়েক শতাব্দী ধরে বেঁচে থাকার পরও কচ্ছপের শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
তাই কচ্ছপের আয়ু কয়েক`শো বছর হলেও বিশেষ প্রজাতির বলিষ্ঠ এই কচ্ছপটি অমর বলেই দাবি করে থাকেন প্রাণীবিদরা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শরীরের বয়স হলেও এদের অরগ্যানের বয়স বাড়ে না। ফলে, অসুখ না-করলে, বা শিকারির ফাঁদে ধরা না দিলে স্টার্ডি টার্টলসও অমর।
0 মন্তব্যসমূহ