একজন ইন্টারনেট বেবহারকারি হিসেবে সবাই আমরা ফেসবুকের নাম শুনেছি। ফেসবুক হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বাংলাদেশেও সর্বাধিক জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া।
আমরা সবাই খেয়াল করেছি যে, ফেসবুকের নাম বদলে গিয়েছে। কিন্তু কেন এই নাম পরিবর্তন করা হল? এর নেপথ্যে কী রয়েছে? আসুন আজ এর বিস্তারিত জেনে নেই ।
পৃথিবীর একটি বড় রি-ব্র্যান্ডের অংশ হিসাবে ফেসবুক এতদিনের কর্পোরেট নাম পরিবর্তন করে মেটা রেখেছে। তবে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্মগুলোর কোন নাম পরিবর্তন করেনি। নাম বদলেছে শুধুমাত্র তাদের মালিকানাধীন মূল কোম্পানির।
এখন প্রশ্ন হলো, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানটির নাম হঠাৎ কেন পরিবর্তন করা হলো?
প্রথমত- ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম বদলের ঘটনা নতুন কিছু নয়। যেমন, এর আগে গুগল তাদের প্রধান প্রতিষ্ঠানের নাম বদলে অ্যালফাবেট করে আর গুগলের মালিকানায় থাকা ৬টি প্রতিষ্ঠান এখন ওই কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হয়।
দ্বিতীয় যে কারণটি আলোচনায় সবার উপরে ছিল এবং ফেসবুকও যেটি জানিয়েছে তা হলো- তাদের নতুন ব্যবসায়িক ধারণা মেটাভার্সকে প্রতিষ্ঠিত করা।
একজন বহিরাগতের কাছে, মেটাভার্স দেখতে ভিআর ভারচুয়াল রিয়েলিটি-এর একটি সংস্করণের মতো, কিন্তু কিছু মানুষ বিশ্বাস করে যে এই মেটাভার্সই ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ হতে পারে। এখানে মানুষ কম্পিউটারে কাজ করার পরিবর্তে, মেটাভার্স নামের ভার্চুয়াল জগতে হেডসেটের সাহায্যের প্রবেশ করতে পারবে। যেখানে সব ধরণের ডিজিটাল পরিবেশের সাথে সংযোগ স্থাপন করা যাবে৷ আশা করা হচ্ছে যে, ভার্চুয়াল জগতটি কাজ, খেলা এবং কনসার্ট থেকে শুরু করে বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগের জন্যও ব্যবহার করা যাবে। এ কাজে ফেসবুক ছাড়াও গুগলসহ অন্যান্য প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর বড় অংকের বিনিয়োগ আছে। ডিজিটাল দুনিয়ার সঙ্গে মানুষকে তার বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে যাবে এই মেটাভার্স।
এ ধারণাকে প্রাধান্য দিয়েই নাম বদলালো ফেসবুক। প্রযুক্তি দুনিয়ার নয়া জায়ান্ট হিসেবে আবির্ভূত হলো এই ‘মেটা’।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এটির পরিসর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বাইরেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটির (ভিআর) মতো ক্ষেত্রগুলোতে বাড়িয়েছে। ফলে এখন একটি জায়গায় সবকিছু আরো ভালভাবে "অন্তর্ভুক্ত" করা যাবে।
বেশ কিছুদিন আগে ফেসবুকের একজন কর্মচারী চাকরি ছাড়ার পর ওই কোম্পানি সম্পর্কে বিভিন্ন গোপন তথ্য ফাঁস করে। এরপর একের পর এক নেতিবাচক খবর প্রকাশ হতে থাকে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও নাম পরিবর্তন করলো ফেসবুক।
ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্টে জুকারবার্গ লেখেন, 'আমরা ইন্টারনেটের জন্য পরবর্তী অধ্যায়ের শুরুতে আছি এবং এটা আমাদের সংস্থার জন্যও পরবর্তী অধ্যায়।' তিনি লেখেন, বেশিরভাগ টেক কোম্পানি গুরুত্ব দেয় কীভাবে মানুষ প্রযুক্তিকে একাত্ম করবে, আমরা গুরুত্ব দিই প্রযুক্তি তৈরির মাধ্যমে মানুষে মানুষে জনসংযোগ করার। আর ফেসবুককে বিশ্বের আইকনিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্র্যান্ড হিসাবে উল্লেখ করে এটা বাস্তবায়ন হবে।
জুকারবার্গ লিখেছেন, “সোশ্যাল আযাপস তৈরি করা সবসময় আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং আরও অনেক আ্যাপ তৈরির বাকি আছে। কিন্তু সর্বতোভাবে এটাই শুধু আমরা করছি না। আমাদের সপ্ন হল, মানুষকে একসঙ্গে আনা। আর মেটাভার্স হবে সেটাই, যেমনটা ফেসবুক শুরুর সময়ও ছিলাম।”
জুকারবার্গ লিখেছেন তার সংস্থায় পরিকাঠামোগত কিছু পরিবর্তন এনেছেন। দুটো ভাবে তাঁদের ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থাকছে। এক, তাঁদের সমস্ত আ্যাপের ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় আর অপরটি হল, ভবিষ্যতের প্ল্যাটফর্ম তৈরি। মেটাভার্স একদিকে সামাজিক অভিজ্ঞতা দেবে মানুষকে, অন্যদিকে এটাই হবে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি।। তবে নাম বদলালেও তাঁদের লক্ষ্য একই থাকছে বলে লিখেছেন জুকারবার্গ। তিনি লেখেন, "আমাদের মিশন সেই একই- মানুষকে একত্রিত করা।'
জুকারবার্গ জানান, ছোট থেকে তিনি ক্লাসিক বই পড়েছেন প্রচুর। সেখান থেকেই মেটা নামটি নিয়েছেন। মেটা এসেছে গ্রিক মাইথোলজি থেকে। যার অর্থ বেয়ন্ড বা ছাড়ানো।
সর্বোপরি বলা জায়, মেটাভার্স হল এক ভার্চুয়াল দুনিয়া। এই ভার্চুয়াল ব্রহ্মাণ্ডে মানুষ সব কাজই করতে পারবেন ভার্চুয়াললি। সেই মেটাভার্সের কথা মাথায় রেখেই এই নামবদল ফেসবুকের।
0 মন্তব্যসমূহ