পৃথিবীর শেষ রাস্তা, কথাটা শুনলেই মনের মধ্যে নানান প্রশ্ন উঁকি দেয়, কেমন হবে পৃথিবীর শেষ রাস্তা? তৎক্ষণাৎ মাথার মধ্যে ঘোরাফেরা করতে থাকে নানান কৌতুহল । এরপর কিছুক্ষনের মোদ্ধে ঘোর কাটতেই চলে আসে নানান যুক্তি।পৃথিবীর শেষ রাস্তা হওয়া কীভাবে সম্ভব , কারণ পৃথিবীতো গোল, আর এটাই ছোটবেলা থেকে জেনে এসেছি। সে ক্ষেত্রে পৃথিবীর শেষ রাস্তা থাকারতো কথাই না ? তবে আজ জেনে রাখুন পৃথিবী শেষ রাস্তা রয়েছে।
এ এক দীর্ঘ পথ। আলো-অন্ধকারে মোড়া। বরফে ঢাকা দীর্ঘ নিঃসঙ্গ এক পথ। সত্যি কথা বলতে, এখানে 'পথ' শব্দটিই আর ব্যবহার করা সম্ভব নয়। কারণ, পথের শেশ এখানেই। এরপর আর যাওয়া যাবে না।
এটিই হল দ্য লাস্ট রোড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড' যা নরওয়েতে অবস্থিত এবং E69 নামে পরিচিত। এটি উত্তরমেরুর সঙ্গে নরওয়েকে যুক্ত করেছে। এই পথ চিরবরফে ঢাকা। তবে এই রাস্তা দিয়ে আপনি একা হেঁটে যেতে পারবেন না , কারণ চারিদিকে ওৎ পেতে রয়েছে ভয়ঙ্কর সব অজানা বিপদ। তাই প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেই এই রাস্তায় একা হেঁটে যাওয়ার জন্য।
বহু অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী মানুষরা এই রাস্তায় একবারের জন্য হলেও হাঁটতে চান। প্রতিবছর বহু পর্যটক এখানে ভিড় জমায়। নরওয়ের এই রাস্তাকেই বলা হয় পৃথিবীর শেষ রাস্তা। অত্যন্ত দীর্ঘ এই রাস্তাটি আলো-অন্ধকারে মোড়া, চারিদিকে সাদা বরফে ঢাকা। একা হাঁটতে গেলে গা ছমছম করবে একদম নিশ্চিত। নরওয়ের এই E69 রাস্তাই হল পৃথিবীর শেষ রাস্তা হিসেবে।
রাস্তাটি চলে গেছে উত্তর মেরুর একেবারে গা ঘেঁষে। অনেকে মনে করেন এই রাস্তার পর নাকি আর কিছু নেই , রাস্তাটি মিশে গিয়েছে অসীমে। দৈর্ঘ্য প্রায় ১২৯ কিলোমিটার। তবে এই রাস্তায় পেরোতে গেলে আপনার সামনে পড়বে প্রায় ৫ টি টানেল। যার মধ্যে সবথেকে দীর্ঘতম টানেলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ কিলোমিটার , এটির নাম নর্থ কেপ। এটি গিয়ে পৌঁছেছে সমুদ্র তলদেশের একেবারে ২১২ মিটার গভীরে।
আপনি যদি এই রাস্তা দিয়ে যান, তাহলে চোখে পড়বে চারিদিকে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। তার সাথে দেখা যাবে সমুদ্র আর বরফ। এই রাস্তাটি তৈরীর পরিকল্পনা হয়েছিল ১৯৩০ সালে এবং চূড়ান্তভাবে এই রাস্তাটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ১৯৩৪ সালে। ১৯৯২ সালে এসে রাস্তাটি সম্পূর্ণভাবে তৈরি করা হয়।
এই রাস্তায় একা যাওয়ার বেশ কিছু ভয়ানক কারণ রয়েছে। এখানে গ্রীষ্মকালেও চারিদিকে বরফে ঢাকা থাকে , শীতকালের তাপমাত্রা থাকে প্রায় -২৬ডিগ্রি থেকে -৪৩ ডিগ্রির মধ্যে । যেহেতু এই রাস্তাটি সমুদ্র উপকূলের কাছে তাই যে কোনো মুহূর্তে আচমকাই আবহাওয়া বদলে যেতে পারে। হঠাৎ হঠাৎ উদয় হয় অতিরিক্ত তুষারপাত কিংবা বৃষ্টি। কখনো বা দেখা দেয় প্রবল তুষারঝড়। এই রাস্তায় যদি আপনি গাড়ি চালাতে চান, তাহলে মারাত্মক বিপদের মুখোমুখি হতে পারেন। ভয়ানক ঠান্ডা, তার উপর প্রচন্ড গতিতে বাতাস বয়। এই অপ্রত্যাশিত আবহাওয়ার কারণেই ‘ই-৬৯ হাইওয়ে’তে একা যাওয়া নিষেধ। একাধিক ব্যক্তি একসঙ্গে এই রাস্তায় যেতে পারবেন। এই রাস্তায় বেশিরভাগটাই বরফের চাদরে মোড়া। ফলে চারপাশ অনেকটা একইরকম দেখতে। তাই রাস্তা হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা বেশি। সেই জন্যই এই রাস্তায় কারও একা যাওয়ার অনুমতি নেই।
0 মন্তব্যসমূহ