মানুষ ঠিক কতটা তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে?

মানুষ ঠিক কতটা তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে?

আপনি জানেন কি? একজন সাধারণ মানুষ সর্বোচ্চ কত ডিগ্রি তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে? এ বিষয়ে ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনির থার্মাল আরগোনোমিকস ল্যাবরেটরির একটি গবেষণাপত্র আছে। সেখানে বলা হয়েছে, ন্যূনতম পোশাকে অত্যন্ত শুষ্ক একটি কক্ষে (আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১০ শতাংশ) বিশ্রামরত একজন মানুষ যদি ক্রমাগত পানি পান করে যান, তবে তিনি সম্ভবত সর্বোচ্চ ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪৬ দশমিক ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রা পর্যন্ত সহ্য করতে পারবেন। এরপর ব্যাপারটি অত্যধিক তাপমাত্রার পর্যায়ে চলে যাবে। তখন শরীরে প্রোটিনের ভারসাম্যতা নষ্ট হতে পারে, মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে। মোট কথা মানব শরীর ডিম ভাজার মতো অবস্থা হবে।

কিন্তু গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা তো এর চেয়ে বেশি হয়ে যায়?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি জায়গা রয়েছে, যার নাম ফার্নেস ক্রিক র‍্যাঞ্চ (Furnace Creek Ranch) যেখানে ১৯১৩ সালের ১০ জুলাই পৃথিবীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড রয়েছে, এটি ছিল ৫৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। । যদিও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা পরবর্তিকালে সেই দাবি খারিজ করে জানায়, ১৯২২ সালে লিবিয়াতে আল আজিজিয়া নামে একটি জায়গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ওঠে ৫৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এখন প্রশ্ন হল, যদি তাপমাত্রা এত বেশিই হয়, তা হলে তো মানুষ বাঁচতই না! ওসব জায়গায় মানুষ কিভাবে বাঁচল? ভাল বিষয়টি হল, মানুষ ঊষ্ণ-রক্তের প্রাণী। বেশি ঠান্ডা বা গরমে মানব শরীর নিজস্ব মেকানিজমে লড়াই করে, একে বলে হোমিওস্ট্যাসিস। এই প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস নামে একটি অংশ দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ঘাম, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া বা বাইরের হাওয়ায় কাটানো, এই সবের মধ্যে দিয়েই হাইপোথ্যালামাস তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 

শরীরের নিজেরই যখন তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আছে, তবে আর চিন্তার কী আছে?

ব্যপারটা ঠিক এতটাও সহজ নয়।

কোনও রকম অসুস্থতা বা সংক্রমণ ব্যাধি ছাড়া, মানব শরীরের তাপমাত্রা নির্ভর করে বেশ কিছু বিষয়ের উপরে। যেমন, বাইরের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, অক্সিজেনের পরিমাণ ইত্যাদি।

নাসা (Nasa) ১৯৮৫ সালে তাদের একটি রিপোর্টে জানায়, ৪ ডিগ্রি থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পর্যন্ত মানব শরীর মোটামুটি সহ্য করে নেয়। কিন্তু আর্দ্রতা যদি ৫০ শতাংশের নীচে হয়, তা হলে এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রাতেও মানবশরীর সহ্য করে নেয়। বেশি আর্দ্রতায় বেশি ঘাম হয়, তার মাধ্যমেও তাপমাত্রা শরীরে নিয়ন্ত্রিত হয়।

তবে, হাইপোথ্যালামাসের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেরও একটা সীমা আছে। বেশি তাপমাত্রা, অস্বাভাবিক আর্দ্রতায় শরীরে হাইপারথার্মিয়া দেখা দেয়। তখন দুর্বল, বমি ভাব, গলা শুকনোর মতো সমস্যা তৈরি হয় শরীরে। সোডিয়াম, পটাশিয়ামের কমে জেতে পারে। যার ফলে শরীর কোলাপ্সড করে যেতে পারে।

তাই গরমে শরীর সুস্থ রাখতে পানির বিকল্প কিছু নেই। সারা দিনে অন্তত দুই লিটার পানি দেহকে সুস্থ রাখে। কম করে হলেও দুই লিটার পানি পান করুন।বেশি পান করতে পারলে আরো ভালো। তবে অনেকে গরমের সময় বাইরে থেকে এসে অনেকেই ঠান্ডা পানি পান করেন। এ সময় এটা একেবারেই করা যাবে না। কারণ, এতে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা বাড়ে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ